ডিবি পরিচয়ে ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, ১ জন আটক

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

চট্টগ্রামে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও হয়রানির অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রামে ফেরেন ২৬ বছর বয়সী নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখানবাজার ফ্লাইওভারের নিচে তার গাড়ি থামানো হয়। সেখানে ডিবি পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে তল্লাশির নামে আটকানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজ পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাগ তল্লাশির অনুমতিও দেন। কিন্তু এরপরও এক সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি এবং দুই ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্য তাকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রতিবাদ করে বের হয়ে আসলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার অভিযোগ করেন, পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তি, যিনি নিজের পরিচয় দেননি, পাইপ দিয়ে তাকে আঘাত করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শতাধিক মানুষ তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও অভিযুক্তরা তাকে ‘আসামি’ বলে সম্বোধন করে মারধর অব্যাহত রাখে। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

পরবর্তীতে নাঈমকে খুলশি থানায় নেওয়া হয়। পরে তিনি চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়ি ফেরেন। মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার পর তিনি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তামিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও নাঈমের বাবার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঘটনার পর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাঈম। তিনি বলেন, একজন পরিচিত ক্রিকেটার হওয়ার কারণে অনেক মানুষ তার পক্ষে কথা বলেছে। কিন্তু তার জায়গায় সাধারণ কেউ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পরে দুপুরে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈম হাসানের বাসভবনে গিয়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুলিশের এমন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিএমপি কমিশনার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি স্বীকার করেন, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন এবং জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত তিন সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বর্ণ চোরাচালানের সন্দেহে নাঈমের গাড়ি থামানো হয়েছিল। তবে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিএমপি জানিয়েছে, পুরো ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, নাঈমের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় কিছুটা আশ্বস্ত হলেও তদন্ত শেষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, নাঈম হাসান গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। তিনি আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

Link copied!