আর্জেন্টিনার ১৩ হাজার সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে আলজেরিয়ার। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ভিন্ন এক কারণে আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামে খেলা দেখার সুযোগ থেকে নিজেদেরই হাজারো সমর্থককে বঞ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে বুয়েনস আইরেস।

তালিকাভুক্তদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ। আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষের মতে, যারা নিজেদের সন্তানের মৌলিক আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসবে অংশ নেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই।

বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “যদি তারা নিজেদের সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করতে না পারে, তাহলে তাদের কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।”

এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা সরকার ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো আদালতে প্রমাণিত ভরণপোষণ বকেয়াকারী ব্যক্তি এবং গুরুতর অপরাধে জড়িতদের ক্রীড়া ভেন্যুতে প্রবেশ ঠেকানো।

সরকারি সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, যাতে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা বিশ্বকাপ চলাকালে কোনোভাবেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে না পারেন।

২০২৩ সালে সম্প্রসারণের পর ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলের ১ হাজার ৩২৮টি ম্যাচে প্রায় ৪০ লাখ দর্শকের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শুধু ভরণপোষণ বকেয়াকারী নয়, স্টেডিয়াম-সংক্রান্ত সহিংস ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নামও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানান, “তালিকায় ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের নাম রয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। আমাদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে অপরাধ বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত কেউ এই বৈশ্বিক আসরে প্রবেশ করতে পারবে না।”

আর্জেন্টিনা সরকারের এই নজিরবিহীন উদ্যোগ বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক বার্তা দিচ্ছে—শুধু মাঠের খেলায় নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও দায়িত্বশীল আচরণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

Link copied!