বিয়ে এড়াতে ‘অপহরণের নাটক’, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রশিবির নেতা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে তার বিরুদ্ধে এক নারীর করা ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শনিবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান দাবি করেন, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, “জিসানকে অপহরণ করা হয়নি। বিয়ে না করার জন্য তিনি পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে যান এবং পরে থানায় অপহরণের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানো হয়।”

বর্তমানে জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে জিসানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জিসান মিয়া (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

জিসানের খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জিসান বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর পুলিশ তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের দাবি, ওই সম্পর্কের জেরে নারীটি অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়।

পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়েতে সম্মতি দেন। তবে বিয়ের আগের রাতে, অর্থাৎ ১১ জুন, তিনি পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে যান এবং অপহরণের ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পুলিশের।

 
 

Link copied!