কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ৩নং করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার ভোটার অধ্যুষিত এ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতায় নির্বাচনী আমেজ ধীরে ধীরে জমে উঠছে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতে পারে।
বর্তমান চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ নাদিম মোল্লা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে এলাকায় জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত প্রার্থী বাদল মাস্টারকে ২৮৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অতীতে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে লায়ন মোহাম্মদ নাদিম মোল্লা বলেন, “জনগণ চাইলে আমি আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারি। তবে সবকিছু নির্ভর করবে নির্বাচনের পরিবেশ ও পরিস্থিতির ওপর।”
অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শরাবউদ্দিন লস্কর পারভেজও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও রয়েছে। তার মরহুম পিতা শাফীউদ্দিন লস্কর এবং হুমায়ুন কবির লস্কর অতীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে এলাকায় তার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. কামরুল ইসলাম ইদুর নামও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্রীড়া, সমাজসেবা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় যুবসমাজের একটি বড় অংশ তার সঙ্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম ইদু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি ক্রীড়া ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি। এলাকার যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। তরুণদের একটি বড় অংশ আমার সঙ্গে রয়েছে এবং তারা উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। জনগণের মতামত ও সমর্থন পেলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণা দেননি। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।”
করগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এবার কোনো ধরনের প্রভাব, ভয়ভীতি বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চান। তাদের প্রত্যাশা, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ নাদিম মোল্লা, সাবেক চেয়ারম্যান শরাবউদ্দিন লস্কর পারভেজ এবং সম্ভাব্য নতুন মুখ মো. কামরুল ইসলাম ইদুর অংশগ্রহণে আগামী করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা, দলীয় সমর্থন, নির্বাচনী পরিবেশ এবং জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নির্বাচনের চূড়ান্ত সমীকরণ নির্ধারণ করবে।
আপনার মতামত লিখুন :