ভারী বৃষ্টির মধ্যেও কসবায় দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৫০

আশরাফ উজ্জ্বল , কসবা (বি-বাড়িয়া) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালে পৌরশহরের কদমতলী এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ভারী বর্ষণের মধ্যেও শনিবার সকাল থেকে শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বহু লোক আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহপুর গ্রামের মো. সাইফুল নামের এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আড়াইবাড়ি গ্রামের কয়েকজন গুরুতর আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কসবা পৌরশহরের কদমতলী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কসবা থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কসবা পৌরশহরের শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা মরিয়ম বেগমকে একটি হজ কাফেলার মাধ্যমে ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে নেওয়া হয়েছিল। ওমরা শেষে দেশে ফেরার পথে তার একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মরিয়ম বেগমের নাতি নাঈমের সঙ্গে হজ কাফেলার পরিচালক মোয়াল্লেম গিয়াস উদ্দিনের বাকবিতণ্ডা হয়। গত ১১ জুন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমিন সুলতানা বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চললেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

দুপুরের পর সংঘর্ষ থেমে গেলেও এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Advertisement

Link copied!