চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা রামগঞ্জ ​পশ্চিম আঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মোহাম্মদ তারেক , রামগঞ্জ (লক্ষীপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

​লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ​পশ্চিম আঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে।

গত ​৪ জুন প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটির সভাপতি মো. জিয়া উদ্দীন ও সদস্যসচিব ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিদ্যালয়টিকে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়। 

শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা, নিয়মিত উপস্থিতি, ঝরে পড়ার হার শূন্যের কাছাকাছি রাখা, পাঠদানের মানোন্নয়ন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

১৮৮৫ সালে  প্রতিষ্ঠিত এ ​বিদ্যালয়ের দেয়ালজুড়ে শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি। প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষ। এ কক্ষের দেয়ালে রঙিন চিত্র দেখেই বর্ণমালা শিখছে শিশুরা। টিফিনের ঘণ্টা বাজলেও হাতে বই নিয়ে কেউ কেউ বসে আছে পাঠাগারে। 

এ বিদ্যালয়ের ১১টি শ্রেণিকক্ষই নান্দনিক চিত্রকর্ম ও শিক্ষাসামগ্রীতে সাজানো। প্রতিটি কক্ষের নামকরণ করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া, কবি শামসুর রাহমান, বেগম সুফিয়া কামালসহ দেশের বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক ও বীরশ্রেষ্ঠদের নামে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সাত শতাধিক বইয়ের সমৃদ্ধ পাঠাগার। পাশাপাশি অভিভাবকদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ‘আনন্দ পাঠাগার’ নামে পৃথক একটি পাঠাগার রয়েছে। এতে রয়েছে দেড় শতাধিক বই।

​বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে শুধু বই থেকে নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও শিক্ষা দেওয়া হয়। যেমন পরিবেশদূষণ সম্পর্কে ধারণা দিতে শিক্ষার্থীদের খালপাড়সহ বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা এসব জায়গা পর্যবেক্ষণ করে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করে। 

​শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সৃজনশীল কার্যক্রমও এতে হচ্ছে। এটিও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখছে। এর ফলে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সফলতা পেয়েছে।

বর্তমানে  স্কুলে ৪৩৬ শিক্ষার্থীর জন্য  রয়েছেন  ১১ জন শিক্ষক। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী প্রতিষ্ঠানটিরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ১৯৭৭ সালে তিনি এই বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেনীতে  বৃত্তি পেয়েছিলেন। পরে শিক্ষক হয়ে নিজের স্কুলেই ফিরে আসেন। জানতে চাইলে এ কে এম শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এ তিনের সমন্বয়ে একটা বিদ্যালয় ভালো ফলাফল করে।  সুনাম বয়ে আনে। আমরা সেটার চেষ্টা করছি এবং সফলতা ও পেয়েছি। 

​প্রধান শিক্ষক আরো জানান , ২০২২ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ২০ জন  শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২০ জন ই বৃত্তি পায়। 

বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর  শিক্ষার্থী সাইফা আক্তারের বাবা সাইফুল ইসলাম  বলেন, "এই বিদ্যালয় যে স্বীকৃতি পেয়েছে, তা পুরো এলাকার গর্ব। শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ই এ সাফল্যের কারন।"

 

Advertisement

Link copied!