স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইলেন রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে প্রশ্নও উত্থাপন করেছেন।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জবাব দিলেও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। তবে তিনি আশ্বাস দেন যে নির্ধারিত সময়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।”

আলোচনায় রুমিন ফারহানা উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি জানতে চান। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা পরিষদে ইতোমধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা রাজনৈতিকভাবে মনোনীত ব্যক্তি। অথচ দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের পরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে রুমিন ফারহানা বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, তা জনগণ জানতে চায়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়েও নানা ধরনের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন তারা অংশ নিতে পারবে, কেউ বলছেন পারবে না। আবার কেউ বলছেন দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।”

তার মতে, এ বিষয়ে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত জানানো হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি দূর হবে।

Link copied!