ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

আন্তর্জাতিক পুলিশিং সংস্থা ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। হত্যা, মানবপাচার, জালিয়াতি, দুর্নীতি, অস্ত্র ও যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে তাদের খুঁজছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের একাধিক দেশ। সম্প্রতি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইন্টারপোলের কার্যক্রম।

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৬ হাজার ৪৪২ জন ‘ওয়ান্টেড’ ব্যক্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি। তবে রেড নোটিশপ্রাপ্ত সব ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে প্রকাশ করে না সংস্থাটি। অনেক ক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে কিংবা অভিযুক্তকে আত্মগোপনের সুযোগ না দিতে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়। এ কারণে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হলেও তার নাম প্রকাশ্য ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় দেখা যায়নি। তবে রেড নোটিশ সংক্রান্ত তথ্য ইন্টারপোলভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থার নেটওয়ার্কে সংরক্ষিত থাকে।

বাংলা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত বাংলাদেশিদের মধ্যে কয়েকজনকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বেলজিয়াম, সিঙ্গাপুর ও ইসওয়াতানিসহ বিভিন্ন দেশ। সিঙ্গাপুর হত্যা মামলায় চাঁদপুরের রাজু ঢালীর সন্ধান চেয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা নোয়াখালীর মিজান মিয়াকে এবং ইসওয়াতানি ঢাকার মো. মিলন ও লিটন ব্যাপারীকে হত্যার অভিযোগে খুঁজছে। ভারত মুদ্রা জালিয়াতির অভিযোগে খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস ও তরিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর সবুজ, গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ, নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিক উলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বেলজিয়াম হত্যা মামলায় লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ আলমকে খুঁজছে।

অন্যদিকে মালয়েশিয়া চোরাচালানের অভিযোগে নাটোরের সিরাজ মোস্তফা এবং হত্যা মামলায় ফেনীর আলা উদ্দিনকে খুঁজছে। মালদ্বীপ তছরুপের অভিযোগে হানিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম এবং অস্ত্র মামলায় ফজলুল আমীন জাভেদের সন্ধান চেয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে যাদের খোঁজা হচ্ছে তাদের বড় একটি অংশ হত্যা মামলার আসামি। এদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন খান, ফরিদপুরের নাইম খান ইকরাম, বগুড়ার কালা জাহাঙ্গীর ফেরদৌস, গাজীপুরের নুরুল দীপু ও আহাম্মেদ মজনু, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরী, ঢাকার নুর চৌধুরী, নবী হোসাইন, জিসান আহমেদ, তৌফিক আলম, প্রকাশ কুমার, জাফর আহমেদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, নাজমুল আনসার, শরীফুল হক ডালিমসহ আরও অনেকে।

এ ছাড়া মানবপাচারের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল এবং মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলামকে খুঁজছে বাংলাদেশ। পর্নোগ্রাফি মামলায় টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, অস্ত্র মামলায় গিয়াস উদ্দিন, নির্যাতনের মামলায় চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ এবং জালিয়াতির অভিযোগে জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমানও রয়েছেন অনুসন্ধান তালিকায়। এছাড়া হত্যা মামলার আসামি হিসেবে জাহিদ হোসেন খোকন, সৈয়দ মো. হাছান আলী, আবুল কালাম আজাদ এবং সৈয়দ মো. হোসেনের বিরুদ্ধেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে অনুসন্ধান চলছে।

১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন বর্তমানে বিশ্বের ১৯৬টি দেশের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। সীমান্ত পেরিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।

Link copied!