প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে উৎসবের জনপদ মৌলভীবাজার, পৌঁছেছে ‘লাল-সবুজ’ বাস

চায়ের সুবাস, সবুজের সমারোহ আর পাহাড়-টিলার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে ঘেরা মৌলভীবাজার এখন যেন নতুন এক প্রত্যাশার প্রহর গুনছে। বুধবার (১৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

সফরের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মানুষের আগ্রহ। জেলার বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় শোভা পাচ্ছে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, শুধু একটি সরকারি সফর নয়, এটি মৌলভীবাজারের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত, যা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এরই মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বুলেটপ্রুফ ‘লাল-সবুজ’ বাস। অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও বুলেটপ্রুফ গ্লাসে সজ্জিত বাসটি মৌলভীবাজারে পৌঁছানোর পর একনজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন সেই মুহূর্ত। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগাম বার্তা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রাজনগর ও শ্রীমঙ্গল-এ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের অভিজাত দুসাই রিসোর্ট-এ আয়োজিত একটি বিশেষ রাজনৈতিক সভায় অংশ নেবেন। সেখানে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও করা হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে একাধিক সমন্বয় সভা ও মহড়া সম্পন্ন করেছে। সভাস্থল ও সফরসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন যাতে সফরের প্রতিটি কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতির বাইরে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার, অফিস কিংবা আড্ডার আসর—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন প্রধানমন্ত্রীর সফর। অনেকেই মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

সবুজ চা-বাগান আর অতিথিপরায়ণ মানুষের জেলা মৌলভীবাজার এখন অপেক্ষায় এক বিশেষ দিনের। আর সেই অপেক্ষাকে ঘিরেই পুরো জেলায় তৈরি হয়েছে উৎসব, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার এক অনন্য আবহ। আগামী ১৭ জুনের সফর তাই শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং মৌলভীবাজারবাসীর কাছে একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা।

Link copied!