মিছিল, মিটিং আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার জেলার শহর থেকে শুরু করে উপজেলা ও হাট-বাজার। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাঁকে একনজর দেখতে এবং তাঁর বক্তব্য শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। দলীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সরকার গঠনের মাত্র চার মাসের মাথায় বুধবার (১৭ জুন) চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে ১৫২ জন নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পরে দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনগর উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত ১৫৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।
এরপর বিকেল সাড়ে তিনটায় তিনি স্থানীয় একটি রিসোর্টে বিশ্রাম নেবেন এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন। সন্ধ্যার আগে সড়কপথে সিলেটের উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার শহরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানস্থল দুটি নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে কাদাময় হয়ে পড়া মাঠে বালু ফেলে সমতল করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে মঞ্চ, প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা বেষ্টনী। একই সঙ্গে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেল জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ সফরকে ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার একটি জনসভায় তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবার মৌলভীবাজারে ফিরবেন। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই তাঁর এই সফর।
তবে উৎসবের আবহের পাশাপাশি জেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন দাবিও তুলে ধরতে চান। চা, আগর-আতর, রাবার শিল্প, প্রবাসী আয়ের অবদান এবং দেশের বৃহৎ হাওরাঞ্চলের অন্যতম জেলা হওয়া সত্ত্বেও মৌলভীবাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে রয়েছে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু করা, মিরপুর-শ্রীমঙ্গল-শেরপুর বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন প্রকল্প গ্রহণ।
জানা গেছে, স্থান সংকুলানের কারণে রাজনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসের পরিবর্তে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মাঠ প্রস্তুত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও নিয়মিত প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন।
জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে মৌলভীবাজারের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-প্রত্যাশা বাস্তবায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :