কাশিয়ানী প্রতিনিধি: তীব্র গরমের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলায় লোডশেডিং ব্যাপক হারে বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) গোপালগঞ্জ দপ্তর রুটিন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা।
ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জ দপ্তরের ১৬/০৬/২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় গোপালগঞ্জ পৌরসভাসহ জেলাব্যাপী লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদা ও বরাদ্দ সময়ে সময়ে পরিবর্তনশীল হওয়ায় লোডশেডিং দিন-রাত, সকাল-সন্ধ্যার উপর নির্ভরশীল নয়। দপ্তর নিজে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না, জাতীয় গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী বরাদ্দ অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সম্ভাব্য লোডশেডিং সূচিও দেওয়া হয়েছে। মিয়াপাড়া ফিডার সকাল ৯:০০-১০:০০, টাউন ফিডার ১০:০০-১১:০০, মোহাম্মদপাড়া ফিডার ১১:০০-১২:০০ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রতিবার লোডশেডিং প্রায় ১ ঘণ্টা ব্যাপী হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১৬/০৬/২০২৬ তারিখ দুপুর ২:৪০-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলার চাহিদা ৭৮ মেগাওয়াট থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৭ মেগাওয়াট। ঘাটতি ৪১ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার ৫২.৫৬%। সর্বোচ্চ চাহিদা ৯৭.৮০ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় ৮টি ফিডারেই লোডশেডিং চলছে।
পিবিএস-২-এর এমইউ-১ ফিডারে ১৫.১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ৬.৩৩ মেগাওয়াট, পিবিএস-৩-এর কেও-২ ফিডারে ১৮.১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ৭.৫৯ মেগাওয়াট। পিবিএস কর্তৃপক্ষ জানায়, বরাদ্দ আরও কমেছে। সবাইকে নতুন বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। হঠাৎ লোডশেডিং বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ গেলে ব্যবসা চালানো দায়। শিক্ষার্থী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন।
ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জ দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, "জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ কম পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে রুটিন করে লোডশেডিং দিচ্ছি। বরাদ্দ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করছি।"
আপনার মতামত লিখুন :