লাল-সবুজের বিশ্বজয়: দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অপরিহার্যতা :- ড.মোঃ আশরাফুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

বাংলাদেশের ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া কেবল আবেগের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী কর্মযজ্ঞ। ফুটবলের বিশ্বকাপে লাল-সবুজের পতাকাকে উড্ডীন দেখতে হলে আমাদের গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ও পেশাদার কাঠামোতে রূপান্তর ঘটাতে হবে।

​প্রথমত, ফুটবলের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো ‘গ্রাসরুট লেভেল’ বা তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন। ইউরোপীয় আদলে আমাদের প্রতিটি জেলায় দীর্ঘমেয়াদী ফুটবল একাডেমি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু-কিশোররা বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণ, পুষ্টি এবং উন্নত পরিবেশ পাবে। এই পাইপলাইন থেকে উঠে আসা মেধাবীরাই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের মেরুদণ্ড হবে।

​দ্বিতীয়ত, পেশাদার ফুটবল লিগের মানোন্নয়ন অপরিহার্য। ঘরোয়া ক্লাবগুলোকে কেবল ক্লাব হিসেবে নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উন্নত ভেন্যু, ভিডিও অ্যানালাইসিস এবং ডাটা-ভিত্তিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে ফুটবলারদের শারীরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিদেশী খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয়দের পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়া এবং লিগকে দীর্ঘমেয়াদী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করা অত্যন্ত জরুরি।

​তৃতীয়ত, আধুনিক ফুটবল এখন প্রযুক্তিনির্ভর। স্পোর্টস সায়েন্স, উন্নত ট্রেইনিং মেথডলজি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত অভিজ্ঞ দলের সাথে প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। আমাদের খেলোয়াড়দের ট্যাকটিক্যাল অ্যাওয়ারনেস এবং খেলার মানসিকতা তৈরিতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ কোচদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আসা প্রয়োজন।

​পরিশেষে, ফুটবলের এই স্বপ্ন পূরণে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য। ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি একটি শিল্প ও ইন্ডাস্ট্রি। যখন আমরা একটি শক্তিশালী তৃণমূল কাঠামো, পেশাদার লিগ এবং উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারব, তখনই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ফুটবল দলের উপস্থিতি কেবল স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নেবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের প্রতীক্ষায় ফুটবলের আমূল সংস্কার হোক আমাদের লক্ষ্য।

​আপনার কি মনে হয়, বর্তমানের এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের ক্লাবগুলোর করপোরেট স্পনসরশিপের বাইরে গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে আলাদা কোনো 'ন্যাশনাল ফুটবল ফান্ড' গঠন করা কতটা কার্যকর হতে পারে?

আমার বিশ্বাস মি. আমিনুল হক , মাননীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যিনি মন্ত্রী বটে কিন্ত একজন চৌকস প্রাক্তন ফুটবলার। তাঁর নেতৃত্বেই ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের ফুটবল এগিয়ে যাবে।

(তারিখ: ১৭ জুন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর আশাবাদ)

Link copied!