হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ২০২১ সালের নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ‘রয়েল রিসোর্ট’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। দীর্ঘ এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তৎকালীন সরকার ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছিল।
মামুনুল হক বলেন, রয়েল রিসোর্টে অবস্থানের সময় তার সঙ্গে থাকা জান্নাত আরার পরিচয় নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। তিনি দাবি করেন, জান্নাত আরার জাতীয় পরিচয়পত্রে তখনও তার সাবেক স্বামী হাফেজ শহিদুল ইসলামের নাম ছিল। এছাড়া তার প্রথম স্ত্রীও জান্নাত আরাকে পূর্বপরিচিতি অনুযায়ী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হিসেবেই চিনতেন। সে কারণেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি ফোনে ওই পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
ঘটনার সময় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকারও সমালোচনা করেন মামুনুল হক। তার প্রশ্ন, তিনি ও জান্নাত আরা স্বেচ্ছায় সেখানে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত অভিযোগও ছিল না। সে ক্ষেত্রে পুলিশের নেতৃত্বে তাদের কক্ষে প্রবেশ এবং পরবর্তীতে ব্যক্তিগত কল রেকর্ড প্রকাশ ও প্রচার কোন আইনের আওতায় বৈধ ছিল— তা জানতে চান তিনি।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার তাকে ইসলামী অঙ্গনের শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চাপ দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন এক শীর্ষ কর্মকর্তা তাকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
মামুনুল হক আরও অভিযোগ করেন, জান্নাত আরা, তার সাবেক স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি বলেও তিনি দাবি করেন।
‘মুতা বিয়ে’ ও ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ সংক্রান্ত প্রচারণাকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, তার বিয়ে ছিল সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত এবং বৈধ ইসলামী বিয়ে। এ বিষয়ে প্রচারিত নানা তথ্যকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করেন।
জান্নাত আরার সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, পারস্পরিক মতপার্থক্যের কারণে চলতি বছরের মার্চ মাসে তারা আলোচনার মাধ্যমে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত তিনি তার সকল ভরণপোষণ ও প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করেছেন বলেও দাবি করেন।
রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আদর্শিক ও রাজনৈতিক মতভেদের কারণে অনেকেই ওই ঘটনাকে ব্যবহার করে তার চরিত্রহননের চেষ্টা করেছে। তবে এসব অপপ্রচার তাকে সত্যের পক্ষে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন।
বিবৃতির শেষাংশে মামুনুল হক কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকারীদের উদ্দেশে ‘মুবাহালা’র আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সকলকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার এবং অন্যের সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে কটূক্তি না করার আহ্বান জানান।
রয়েল রিসোর্টের ঘটনাকে ঘিরে প্রচলিত ‘৫০১’ শব্দবন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি তার নয়; বরং তৎকালীন সরকারের ব্যর্থতা ও পরাজয়ের প্রতীক। ভবিষ্যতে এটিকে ‘বিজয়ের প্রতীক’ হিসেবে স্মরণ করারও ঘোষণা দেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, “আমি রাষ্ট্রীয় চাপ, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের মুখেও আপস করিনি। আল্লাহর রহমতে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে পেরেছি।”
আপনার মতামত লিখুন :