কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা এলাকাকে দুধকুমার নদের ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে দুধকুমার নদের তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আখের, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ইউসুফ, সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী এবং কচাকাটা থানা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কেবল দুধকুমার নদী নয়, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর অন্তত ৩৬টি পয়েন্টে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। গত এক দশকে জেলার লক্ষাধিক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হলেও তাদের সঠিক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। নতুন করে যারা নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন, তাদের প্রতিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজর নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও বাংলাদেশে ভাঙনকবলিত মানুষ ন্যূনতম সরকারি সহায়তাও পান না। চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্থায়ী অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি জানান। তাঁর ভাষায়, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের মতো চরাঞ্চলের কোটি মানুষের উন্নয়নের স্বার্থেও আলাদা মন্ত্রণালয় এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে পাইকডাঙ্গা এলাকায় দুধকুমার নদের ভাঙন রোধে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পাইকডাঙ্গাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :