প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছয় দিনের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রথম পর্বে তিনি রোববার দুপুরে কুয়ালালামপুরের পথে রওনা হন।
রোববার দুপুর পৌনে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ উড়োজাহাজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সফরের প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি আরও জানান, সফরসঙ্গীদের দলটি তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার উচ্চ কমিশনার শুহাদা ওসমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর।
প্রধানমন্ত্রীর ২৩ সদস্যের সফরসঙ্গী দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
সফরের আগে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম সম্ভাব্য কর্মসূচি ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। পরদিন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং পরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, অর্ধপরিবাহী শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়েও আলোচনা হবে।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক জোটের সংলাপ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে যোগদানের আবেদনের পক্ষে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনা করবে বাংলাদেশ।
মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি সেখানে পৌঁছাবেন।
পররাষ্ট্র সচিবের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন বেইজিংয়ে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে সেদিনই তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন।
আপনার মতামত লিখুন :