সরকারি কর্মচারীদের জন্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বৃদ্ধির বদলে এবার গ্রেডভিত্তিক ভিন্ন কৌশল গ্রহণের চিন্তাভাবনা চলছে।
সূত্র অনুযায়ী, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল নতুন কাঠামোতে মূল বেতন বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ প্রথম অর্থবছরে এবং বাকি ৫০ শতাংশ দ্বিতীয় অর্থবছরে দেওয়া হবে। এরপর শেষ পর্যায়ে বাড়তি ভাতার অংশ যুক্ত করার কথা ছিল।
তবে নতুন প্রস্তাবনায় সেই পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। আলোচনায় থাকা নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী—
* ১ম থেকে ৯ম গ্রেড (কর্মকর্তা): বেতন বৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর হতে পারে
* ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (কর্মচারী): বেতন বৃদ্ধির প্রায় ৬০ শতাংশ একই সময়ে কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে
তবে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি বলে জানা গেছে।
এর আগে ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করে, যার ধারাবাহিকতায় গঠিত হয় ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়। পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বেতন কমিশনও প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে গ্রেডভেদে ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সরকারের রাজস্ব খাতে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
এই বিশাল আর্থিক চাপ সামলানো এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই বাস্তবায়ন কৌশলে পরিবর্তনের এই চিন্তা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১ জুলাই থেকে কাঠামো কার্যকর হওয়ার ঘোষণা থাকায় এখন নজর থাকবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে বাস্তবায়ন পদ্ধতি কীভাবে নির্ধারিত হয় তার ওপর।
সূত্র: বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস
আপনার মতামত লিখুন :