আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত আদালতের: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আদালতের ওপরই নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯-এর আওতায় আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের এমন কোনো সক্ষমতা বা নৈতিক শক্তি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না, যার ভিত্তিতে তারা জনসমক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে পারে। অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে দলটির পক্ষে জনগণের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, লুটপাট, দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নৈতিক শক্তি সাধারণত খুব বেশি থাকে না।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দিষ্ট নীতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। কোনো দল সেই মৌলিক নীতিমালা থেকে বিচ্যুত হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জার্মানির একটি রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সেখানে আলোচনা চলছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল ব্যাপক জনসমর্থন পেলেই তাকে সীমাহীন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যায় না। গণতন্ত্রের কিছু মৌলিক শর্ত ও নীতি রয়েছে এবং সেসব বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসবে। আদালত তার এখতিয়ার অনুযায়ী যে রায় দেবে, সরকার সেই সিদ্ধান্তই মেনে চলবে।

Link copied!