সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বা বিকৃত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের নিজস্ব যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা রয়েছে এবং কোনো তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের মতামতের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি এক কলেজশিক্ষার্থীকে আটকের ঘটনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সাইবার টিম অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে কিংবা পোস্ট সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কোনো একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান কোনো পোস্টকে ভুয়া বলে চিহ্নিত করলেই সেটি চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গণ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, কোনো পোস্ট বা স্ক্রিনশট সত্যিই বিকৃত করা হয়ে থাকলে রাষ্ট্র কখনোই কারও প্রতি অন্যায় আচরণ করবে না। এ ধরনের বিষয় যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। যাচাইয়ের মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো তথ্য বা পোস্ট ভুয়া, তাহলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার চায় না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হোক। একই সঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও অপমানজনক প্রচারণার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা হোন কিংবা সাধারণ কোনো নারী— রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সবার অধিকার সমান। নারীদের বিরুদ্ধে নোংরা ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার গুরুত্ব স্বীকার করে জাহেদ উর রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। তবে আলোচনার অগ্রগতি দেখে তাঁর ধারণা, বিষয়টি শিগগিরই প্রকাশ্যে আসতে পারে।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। অতীতে যেসব সমস্যার কারণে শ্রমবাজার বারবার বন্ধ হয়েছে, সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে কার্যকর আলোচনা হয়েছে। ফলে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :