গোপালগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোশারেফ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে  গোপালগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড।  শনিবার (২১ জুন) সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের বঙ্গবন্ধু সড়কে গোপালগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

ঘন্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধারা একে অপরের হাত ধরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।মানববন্ধনে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ বোরহান উদ্দিন, ছবেদ আলী ভুইয়া ও ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোশারেফ হোসেন মোল্লাসহ মুক্তিযোদ্ধারা বক্তব্য রাখেন।

পরে মানববন্ধন শেষে গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লা।তিনি বলেন, সম্প্রতি যুগান্তর, বাংলা ট্রিবিউন, কালবেলা, ইনকিলাব, আমার বার্তাসহ একাধিক গনমাধ্যমের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, আমি ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমার মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৩৫০০০৫০৯৪ এবং লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৯০১০২৭৮। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায়ও আমার নাম রয়েছে। অথচ কোনও ধরণের যাচাই-বাছাই ছাড়াই অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এসময় নিজের দাবির পক্ষে তিনি মুক্তিবার্তা, মন্ত্রণালয়ের গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি উপস্থাপন করে বলেন, ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের একটি অসম্পূর্ণ তালিকার তথ্যকে ভিত্তি করে আমাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মোশারেফ হোসেন মোল্লা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি এবং ও আমার ছোট ভাই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি এবং পরে দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করি। আমাদের মোল্লা পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ইতিহাস উপেক্ষা করে আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এছাড়া স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হয়নি বলে তাঁর দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং তাঁর মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।এর আগে, মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারেফ হোসেন মোল্লার সম্মান ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। তারা এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এছাড়া, অপপ্রচার বন্ধ এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন এবং মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান মুক্তিযোদ্ধারা। পরে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে এহেন মিথ্যা অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

Advertisement

Link copied!