পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে হত্যার গোপন ছক ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৯:০৯ এএম

জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈঠককে ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ব্রাজিলীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবারের এক বিস্ফোরক দাবিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ দেশটির পুরো প্রতিনিধিদলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

সম্প্রতি এক আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পেপে এসকোবার দাবি করেন, ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আগাম তথ্য পেয়ে সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি জানতে পারে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুরো পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়।

এসকোবারের ভাষ্যমতে, ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়ার পর পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের মাধ্যমে কঠোর বার্তা পাঠায়। তিনি দাবি করেন, ওই বার্তায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের কোনো সদস্যের ক্ষতি হলে তার কঠিন পরিণতি হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার ভিত্তিতে জেনেভায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়, যার অন্যতম সদস্য ছিলেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

এসকোবারের বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে সম্পৃক্ত না করায় শুরু থেকেই তারা অসন্তুষ্ট ছিল। তাঁর মতে, আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তবে এই দাবির পর পাকিস্তানের সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশটির বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ তালাত হুসাইন সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পুরো ঘটনাটি অর্থহীন এবং এর মধ্যে সত্যতার কোনো ভিত্তি নেই। একইভাবে দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সূত্রও দাবিটিকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিস্ফোরক এই দাবি আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিলেও এর পক্ষে কোনো স্বাধীন বা প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!