মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ইসরায়েল বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েল শান্তির সামান্যতম সম্ভাবনাও মেনে নিতে পারে না এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সব ধরনের উদ্যোগকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করে।
বুধবার তুরস্কের জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন ন্যায় ও উন্নয়ন পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
এরদোয়ান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি রাজনীতিকদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে দেশটি যুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রীয় নীতির পরিবর্তে ক্রমশ উগ্র মনোভাব দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল শান্তির ক্ষুদ্রতম সম্ভাবনাও সহ্য করতে পারে না।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে যে অগ্রগতি ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা ব্যাহত করতে ইসরায়েল সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ হোক বা অস্ত্রের ব্যবহার কমে আসুক—তা চায় না। বরং তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলোকে দুর্বল করে দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে এরদোয়ান বলেন, দেশটি সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশে পরিণত করেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণের পরিবর্তে তারা সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল গ্রহণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা ইসরায়েলের বিরোধিতা সত্ত্বেও হবে। একইভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও ইসরায়েলের উস্কানি উপেক্ষা করেই প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
এরদোয়ান আরও বলেন, চলমান রক্তপাত ও সহিংসতার এই চক্র কোনোভাবেই অঞ্চলে শান্তি, ন্যায়বিচার, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে থামাতে পারবে না।
তুরস্ক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন করে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঙ্কারা শান্তির প্রতিটি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে চলমান সংকটের স্থায়ী ও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা।
তবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান অব্যাহত থাকলেও ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যা অঞ্চলজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
আপনার মতামত লিখুন :