কেন মাঝপথে আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে গেল ইরানের প্রতিনিধি দল?

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাঝপথে আকস্মিকভাবে বৈঠক ত্যাগ করার কারণ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হামলার হুমকির কারণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে রোববার সুইজারল্যান্ডের ব্যুরগেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে দুই পক্ষের আলোচনা শুরু হয়।

ইরানের দাবি, লেবাননে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ায় তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম একটি অবগত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প ইরানের প্রতিনিধি দল ও প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে কঠোর হুমকি দিলে ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠককক্ষে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত ছিল।

মঙ্গলবার সমাজমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বৈঠকের ভেতরের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আলোচনা শুরু থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশ বজায় ছিল এবং কোনো উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য ছাড়াই তা এগোচ্ছিল। দুই পক্ষ যখন আলোচনার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই তারা জানতে পারেন যে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকিসহ কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন।

গালিবাফ জানান, এরপর তিনি মার্কিন প্রতিনিধি জে ডি ভ্যান্সকে স্মরণ করিয়ে দেন যে আলোচনার প্রথম অনুচ্ছেদেই উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল, কোনো ধরনের হুমকি বা বলপ্রয়োগের আশ্রয় নেওয়া হবে না। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সেই অঙ্গীকারের পরিপন্থী ছিল।

তিনি বলেন, “হুমকি ও বলপ্রয়োগের পরিবেশে ইরান কখনো আলোচনা চালিয়ে যায় না।” এ অবস্থায় ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসে এবং আর আলোচনায় ফেরেনি। এমনকি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুনরায় বসার প্রস্তাবও তারা প্রত্যাখ্যান করে।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরান তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে, তবে ওই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা হবে না।

গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠক ত্যাগের আগে প্রায় ৮০ মিনিটের আলোচনায় যেসব বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছিল, সেগুলো পর্যালোচনা করে একটি সারসংক্ষেপ চূড়ান্ত করা হয়। পরে কাতার ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সেই সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে।

এদিকে আলোচনার পর শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করেছে, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দুই পক্ষের সমঝোতার আওতায় লেবাননে সংঘাতবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Link copied!