বিয়ে এড়াতে অপছন্দের হবু বরকে খাদে ফেলে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

বিয়েতে অনিচ্ছা ছিল, কিন্তু পরিবারের কাছে সেই কথা প্রকাশ করেননি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে ঠেকাতে নিজের হবু বরকে গভীর খাদে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ওই তরুণী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত কেতন আগারওয়ালের সঙ্গে সিয়া গোস্বালের বিয়ে আগামী নভেম্বরে হওয়ার কথা ছিল। বিয়েকে ঘিরে দুই পরিবারে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল। রাজস্থানের জয়পুরে বিলাসবহুল আয়োজনের পাশাপাশি অতিথিদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, সিয়া এই বিয়েতে সম্মত ছিলেন না।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়েতে অনাগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি পরিবারের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। বরং হবু স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। গত ১৮ জুন, নিজের জন্মদিনে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যান তিনি।

সেখানে এক পর্যায়ে কেতনকে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে উদ্ধারকারীরা দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার পর সিয়া দাবি করেন, ছবি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত খাদে পড়ে গেছেন কেতন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি শোক ও আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন। কিন্তু তার বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পায় পুলিশ। পরে বিস্তারিত তদন্তে হত্যার পরিকল্পনার সূত্র মিললে সিয়া ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেতনের পরিবার ব্যবসায়িকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও সচ্ছল। তার বিয়ের আয়োজনেও বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে বিয়ের আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায় কেতনের জীবন।

সূত্র: এনডিটিভি

Link copied!