পেন্টাগনের বিরুদ্ধে আদালতে আলিবাবা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ছিল অযৌক্তিক, খামখেয়ালীপূর্ণ এবং আইনি ভিত্তিহীন।

মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় আলিবাবা পেন্টাগনের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে চীনা সামরিক-সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তালিকাভুক্ত করা হয়।

আলিবাবার এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো সামরিক সংস্থা নয় এবং চীনের সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলের অংশও নয়। তাঁর দাবি, যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই কোম্পানিটির নাম ওই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তাই নাম প্রত্যাহারের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে আলিবাবা।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের এ সিদ্ধান্তের ফলে কোম্পানিটি তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে নীতিনির্ধারণী যোগাযোগ ও প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলিবাবার হয়ে কাজ করা কয়েকজন প্রতিনিধি ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা আর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কাজ করতে পারবেন না।

বর্তমানে পেন্টাগনের তালিকায় প্রায় ৮০টি চীনা কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান বাইডু এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন নির্মাতা বিওয়াইডিও রয়েছে। এর আগে এসব প্রতিষ্ঠানও তালিকাভুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

আলিবাবা আদালতে জানিয়েছে, তারা একটি আন্তর্জাতিকভাবে তালিকাভুক্ত ই-ব্যবসা ও মেঘভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্য অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা তাদের নিয়ন্ত্রিত সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি করতে পারবে না মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। আলিবাবার অভিযোগ, এ তালিকাভুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের জবাবে চীন সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজসম্পদ খাতসংশ্লিষ্ট ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চললেও আলিবাবার এই মামলা দুই দেশের বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

 

সূত্র: সিবিএস

Link copied!