ত্রিশালের ‘অলৌকিক শিশু’ ফাতেমার পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, জেলা প্রশাসনের সহায়তা

জামাল উদ্দিন খান , ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

জামাল উদ্দিন খান,ময়মনসিংহ : ২০২২ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলার রায়মনি এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও একমাত্র বোনকে হারিয়ে অনাথ হয়ে যায় নবজাতক ফাতেমা। দুর্ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মৃত্যু হলেও চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় মায়ের গর্ভ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এরপর থেকেই তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ফাতেমার ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিশুটির লালন-পালন এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন।

সম্প্রতি জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশাল সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ফাতেমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় ফাতেমার দাদা তাঁর ছোট মুদির দোকানটি আরও সচল ও লাভজনক করতে পুঁজিগত সহায়তার আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২৭ জুন (শনিবার) ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান ত্রিশাল উপজেলার রায়মনি গ্রামে ফাতেমার বাড়ি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তিনি ফাতেমার দাদার মুদির দোকানের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মালামাল হস্তান্তর করেন, যাতে দোকানটি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায় এবং পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের উৎস গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত ফাতেমার বাবা-মা ও বোনের কবর জিয়ারত করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক পরিবারের আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করেন। স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগে পরিবারের সদস্যরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ফাতেমার পরিবারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু একটি অসহায় পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের প্রচেষ্টা নয়, বরং মানবিক রাষ্ট্র পরিচালনার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। পরিবারের স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Advertisement

Link copied!