মোঃ বিল্লাল হোসেন মানিক : ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ময়মনসিংহ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি (দক্ষিণ)-এর নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল ২৬ জুন সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ইসলামবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দীপু (২৫), মোছা. কাজলী (৫০) ও সুমা আক্তার সেতু (২৬)-কে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করে কোতোয়ালী মডেল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান চলমান থাকবে।
জেলা পুলিশ বলছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :