যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সরকার দেশের মানুষের সামনে নতুন আশার দুয়ার উন্মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। জনগণের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনায় রেখে প্রণীত এ বাজেটকে তিনি ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি জানান, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রয়োজন, স্বস্তি ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়েই অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও মতপার্থক্যের মধ্য দিয়েই সংসদের কার্যক্রম এগিয়েছে। সরকারের নানা বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে মতভেদ থাকলেও আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে একটি গণতান্ত্রিক ও শালীন সংসদীয় পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ জন্য সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি দেশের ২০ কোটি মানুষের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।

পাঁচ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ প্রায় সব খাতই সংকটের মুখে ছিল। সেই কঠিন অবস্থা থেকে ধাপে ধাপে দেশকে স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার সফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অতীতের বিতর্কে না গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলেও বাস্তবতার আলোকে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষ, বিশেষত নারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে অতীতের মতো বাজেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবার দেখা যায়নি। জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতার এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলেও তিনি অভিহিত করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল হিসেবে দেশের মানুষের কিছুটা স্বস্তি নিশ্চিত করতে পেরে সরকার সন্তুষ্ট। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

Link copied!