বাজেটে স্বপ্ন দেখলেও বছরজুড়ে জনগণকে স্বপ্নভঙ্গের খেসারত দিতে হয়: রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় সরকার জনগণকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নানা আশার কথা শোনালেও বাস্তবে বছরজুড়ে সেই আশা ভেঙে যাওয়ার মাশুল সাধারণ মানুষকেই দিতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থবিলের সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

রুমিন ফারহানা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘোষিত বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো প্রতি বছর রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে ঘোষিত ঘাটতির বাইরে আরও বড় আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয় এবং সেই ঘাটতি পূরণে দেশকে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণ এবং বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই সফরে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। পেয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিলেছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে কারও কাছে যায়নি। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি গত চার বছর ধরে একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, খেলাপি ঋণের বিস্তার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা—এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সরকারকে বাজেট বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে।

Link copied!