ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ছয় দিন আটকে থাকার পর তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এই অলৌকিক উদ্ধার অভিযানে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দৃশ্যে দেখা যায়, লা গুয়াইরা রাজ্যের একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে জীবিত বের করে আনছেন উদ্ধারকারীরা। তাকে নিরাপদে উদ্ধার করার পর উপস্থিত উদ্ধারকর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ক্লিবার মোরান। তিনি বলেন, এই উদ্ধার পুরো দেশের জন্য আশার বার্তা হয়ে এসেছে।

গত ২৪ জুন দেশটিতে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এ ছাড়া এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও আশ্রয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। নাসার উপগ্রহচিত্রের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

জর্ডানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার করার পর ক্লিবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ বলেছেন, রাজধানী কারাকাসে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এরপর সময় যত গড়ায়, সেই সম্ভাবনা ততই কমতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ছয় দিন পর ক্লিবারের জীবিত উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরায় এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দাও স্বেচ্ছায় উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। তবে এলাকায় খাদ্যসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। মৌলিক সেবাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে অন্তত ৩০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নিরাপত্তা, ত্রাণসামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ কাজে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।

জর্জ রদ্রিগেজ বলেছেন, ক্লিবারের জীবিত উদ্ধার প্রমাণ করে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে বহু পরিবার এখনও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক স্থানে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দাফনের কাজও শুরু হয়েছে।

Link copied!