যৌন কেলেঙ্কারি মামলায় ট্রাম্পের ৫০ লাখ ডলার জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লেখক ও সাবেক কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় বহাল রেখেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ট্রাম্পের আপিল গ্রহণ না করায় ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ কার্যকর থাকছে।

সোমবার (২৯ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি বোর্ড রায় দেয়, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প ই. জিন ক্যারলের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগটিকে ‘প্রতারণা’ বলে উল্লেখ করে তিনি ক্যারলের মানহানিও করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত ক্যারলের পক্ষে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে।

শুরু থেকেই ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, বিচার চলাকালে এমন কিছু প্রমাণ উপস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা জুরিদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তবে গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত জানায়, জুরির রায়ে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো কারণ নেই এবং নতুন করে বিচার প্রয়োজন নয়। পরে ট্রাম্প সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করলেও আদালত মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে আদালত কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি।

সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের পর ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে আবারও নিশ্চিত হলো যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ই. জিন ক্যারলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী। তার ভাষ্য, ধারাবাহিক আপিল ব্যর্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দায় এড়ানোর প্রচেষ্টারও অবসান ঘটেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের আইনজীবী দলের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, পুরো মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার বক্তব্য, মার্কিন জনগণ ট্রাম্পের পাশে রয়েছে এবং বিরোধী দলের সমর্থনে পরিচালিত বলে অভিযোগ করা এ ধরনের মামলার অবসান চায়।

আপিলে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আরও যুক্তি দেন, ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত একটি ভিডিও জুরিদের সামনে উপস্থাপন করা উচিত হয়নি। ওই ভিডিওতে নারীদের সম্পর্কে ট্রাম্পের অশালীন মন্তব্য শোনা যায়, যা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে ক্যারলকে নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া আরেকটি মানহানির মামলায় পৃথক একটি জুরি তাকে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প আপিল করলেও গত সেপ্টেম্বর ফেডারেল আপিল আদালত তা খারিজ করে দেয়।

তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী হলেও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনে সংজ্ঞায়িত ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

 

বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি বিপণিবিতানের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। পরে ২০২২ সালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলায় ক্যারল মানহানির মামলাও দায়ের করেন।

Link copied!