আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, শতাধিক হতাহতের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

পাকিস্তানের বিমান ও স্থল অভিযানে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর আশঙ্কা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলায় তিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার একদিনের মাথায় এই সামরিক অভিযান চালানো হয়।

অন্যদিকে, তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সাম্প্রতিক সশস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এই বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আফগানিস্তানের পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করেই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে একদল সশস্ত্র হামলাকারী আক্রমণ চালিয়ে তিন সেনাসদস্যকে হত্যা করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয় এবং এক আফগান নাগরিককে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। পরবর্তীতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরার ওই হামলার দায় স্বীকার করে।

পাকিস্তানের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এই অভিযান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের ঘাঁটি ধ্বংসের উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই সংগঠনটি পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সীমান্তবর্তী সামরিক অভিযান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের সীমান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা চলছিল।

Link copied!