ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে পাঁচ গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতভর পুলিশ হাসামদিয়া ও আতাদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করেছে এবং বুধবার দুপুরে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সন্তান হারিয়ে নিহত সুমনের বাড়ি কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামে চলছে কান্নার রোল ও শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, "আমার ছেলে সুমনকে সজীব মাতুব্বর, আইয়ুব মাতুব্বর সহ যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।" সন্তানের জামা কাপড়, জুতা, স্যান্ডেল বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছেন তিনি। নিহত সুমনের বাড়ি ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের পুত্র।
এদিকে সুমন হত্যার বিচার দাবিতে বুধবার বেলা ১১টার সময় ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক্সপ্রেসওয়েতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ৫ গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় সুমন শেখ নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন এবং তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ, সাংবাদিক সহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, "মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সুমন শেখ নামের এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সকাল থেকে মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১:৩০টার দিকে সুমনের বিচার দাবিতে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেই। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।"
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইসমাইল মুন্সী বলেন, "আমরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। সংঘর্ষের ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামি সজীব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ৪-৫ মাস আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের ইসমাইল মুন্সির ভাগনা এবাদুল সহ ৩-৪ জন ছেলেকে ধরে নিয়ে পৌরসভার সামনে মারধর করে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দার সহ কয়েকজন যুবক। এরপর বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়।
বুধবার সন্ধ্যার দিকে এবাদুল হাসামদিয়া ব্রিজের নিকট ঘুরতে গেলে আবারো মারধর করে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দার সহ তার লোকজন। সংবাদ পেয়ে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের লোকজন এক্সপ্রেসওয়ে ভাঙ্গা কুমার নদের ব্রিজের উপর দেশি অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। এদিকে সজীব মাতুব্বরের নেতৃত্বে হাসামদিয়া গ্রামের লোকজনও দেশি অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। মহাসড়কের উপর টর্চ লাইট জ্বালিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষে দুই পক্ষের মধ্যে যোগ দেয় পাঁচ গ্রামের মানুষ। এ সময় সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে তিন ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীরা।
আপনার মতামত লিখুন :