ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা কেবল দুটি দেশ নয়, আবেগেরও নাম। বিশ্বকাপ এলে এই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, আলোচনা ও তর্ক যেন নতুন মাত্রা পায়। তবে ফুটবলের বাইরেও বাংলাদেশের ইতিহাসে দেশ দুটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ছিল প্রথম সারিতে।
ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৫ মে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ২৫ মে, অর্থাৎ ব্রাজিলের প্রায় দশ দিন পরে। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল।
বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রতি মানুষের ভালোবাসার মূল কেন্দ্র ফুটবল। বিশ্বকাপ কিংবা বড় কোনো প্রতিযোগিতা এলেই রাত জেগে খেলা দেখা, প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানো এবং জয়-পরাজয় নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন অসংখ্য সমর্থক। ভৌগলিক দূরত্ব অনেক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে দুই দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও বাংলাদেশের মানুষের এক ধরনের মানসিক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারদের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রাও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।
অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাণিজ্যের পরিসরে ব্রাজিল অনেকটাই এগিয়ে। বাংলাদেশ আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে প্রায় আট গুণ বেশি পণ্য রপ্তানি করে। আমদানির ক্ষেত্রেও ব্রাজিলের অবস্থান শীর্ষে। দুই দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুলা দা সিলভা বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক অনুষ্ঠানের পার্শ্ব বৈঠকে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এ ইচ্ছার কথা জানান।
অন্যদিকে দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে আবার দূতাবাস চালু করেছে আর্জেন্টিনা। ফুটবলকে ঘিরে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলনও দেখা গেছে নানা সময়ে। বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে এবং দলের জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে।
ফুটবলের উন্মাদনার বাইরে ইতিহাস ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিচারে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা উভয়ই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। তবে স্বাধীনতার পর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রাজিলই আর্জেন্টিনার আগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
আপনার মতামত লিখুন :