মাঠে নামার আগেই বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে ব্রাজিল দলকে। নির্ধারিত সময়ে মায়ামিতে পৌঁছে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল প্রধান প্রশিক্ষক কার্লো আনচেলত্তি ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাথেউস কুনিয়ার। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তাদের দেখা পাননি সংবাদকর্মীরা। কারণ তখনও মায়ামিতে পৌঁছাতে পারেনি ব্রাজিলের প্রতিনিধিদল।
ব্রাজিলের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ইউওএল-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলা প্রবল বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মূল অনুশীলন শিবির রয়েছে নিউ জার্সির কলম্বিয়া পার্ক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে সেখান থেকে যথাসময়ে নিউআর্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে পৌঁছান নেইমার, ভিনিসিয়ুস, আলিসনসহ দলের অন্য সদস্যরা।
তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় দুর্ভোগ। প্রবল বর্ষণের কারণে উড্ডয়ন অনুমতি না মেলায় খেলোয়াড়দের প্রায় তিন ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও আবহাওয়ার বাধায় তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাত ৩টায় মায়ামির উদ্দেশে রওনা দেয় বিশেষ ভাড়াকৃত উড়োজাহাজটি। অবশেষে আজ সকাল ৭টার দিকে ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরে পৌঁছায় ব্রাজিল দল।
সব মিলিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতরেই কাটাতে হয়েছে সেলেসাওদের। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ-জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি কর্মসূচিতে পরিবর্তনের অনুমতি চেয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন।
তবে দলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি মাঠের প্রস্তুতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
এই ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহের আরেকটি বড় কারণ নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। ফলে মাঠের বাইরের দুর্ভোগ পেছনে ফেলে নেইমার-ভিনিসিয়ুসরা কতটা উজ্জ্বল ফুটবল উপহার দিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন :