অস্ট্রেলিয়ার কাছে ধবলধোলাই হলো বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের খেলায় সিরিজ জয়ের স্মৃতি নিয়েই চট্টগ্রামে এসেছিল বাংলাদেশ। তবে খেলার ধরন ও মাঠ বদলাতেই পাল্টে যায় পুরো চিত্র। ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় তিন ম্যাচের বিশ ওভারের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী মাঠে শেষ খেলায় ৫৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করেছে সফরকারীরা।

১১০ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেই আগ্রাসী রূপ ধারণ করেন অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী ব্যাটাররা। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভার থেকেই চারদিকে বল পাঠিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তারা। সেই ঝড়ো সূচনার পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ।

বিশেষ করে মিচেল মার্শ ছিলেন দুর্দান্ত। মাত্র ২৮ বলে ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি প্রায় একাই জয়ের পথ সহজ করে দেন। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১১ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নিলেও তা কেবল ব্যবধান কমিয়েছে।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। রানপ্রবণ হিসেবে পরিচিত সাগরিকার মাঠে ব্যাটারদের একের পর এক ডট বল ও উইকেট হারানোর মিছিলে স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়তে থাকে।

দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে ফিরে যান তামিম। পরে স্পেন্সার জনসনের শিকার হন সাইফ হাসান। তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি। ১৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করে বিদায় নেন তিনি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ ওভারের খেলার ইতিহাসে অন্তত ১০ বল খেলা কোনো ব্যাটারের সর্বনিম্ন আঘাতহারের অনাকাঙ্ক্ষিত নজির গড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

প্রথম পাঁচ ওভারে ১১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এরপরও দায়িত্ব নিতে পারেননি মধ্যক্রমের ব্যাটাররা। দীর্ঘদিন পর সুযোগ পাওয়া নুরুল হাসান সোহান ও শামীম পাটোয়ারীও হতাশ করেন। শামীমের সাম্প্রতিক চার ইনিংসের সংগ্রহ যথাক্রমে শূন্য, সাত, এক ও তিন রান।

৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল যখন সর্বনিম্ন সংগ্রহের শঙ্কায়, তখন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। রিশাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কিছুটা স্থিতি ফেরান। পরে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে দলকে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেন।

হৃদয়ের অপরাজিত ৬১ রানের লড়াকু ইনিংসই বাংলাদেশের ভরসা হয়ে ওঠে। ৫১ বলের ইনিংসে তিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রানের সংগ্রহ এনে দেন।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন স্পেন্সার জনসন। চার ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা দুটি করে এবং নিখিল চৌধুরী একটি উইকেট শিকার করেন।

শেষ পর্যন্ত ব্যাট ও বলে পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়ে সিরিজের শেষ খেলাটিও জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ফলে তিন ম্যাচের বিশ ওভারের সিরিজে কোনো জয় ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

Link copied!