দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল কানাডা। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কোনো ম্যাচে জয় পায়নি উত্তর আমেরিকার দেশটি। অবশেষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে তারা। এশিয়ার প্রতিনিধি কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করেছে সহ-আয়োজকরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই কাতারের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে কানাডা। প্রথমার্ধেই তিন গোলের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনবার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ায় স্বাগতিকরা।
কানাডার জয়ের নায়ক ছিলেন জোনাথন ডেভিড। জুভেন্টাসের এই ফরোয়ার্ড দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের পর প্রথম আয়োজক দেশের খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন। সর্বশেষ এমন কীর্তি ছিল ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি জিওফ হার্স্টের।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে কানাডা। আগের দিন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে সুইজারল্যান্ড সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠেছিল। তবে কাতারের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় গোল ব্যবধানে সুইসদের টপকে গেছে জেসি মার্শের দল। অন্যদিকে, দুই ম্যাচ শেষে বসনিয়া ও কাতার উভয়ের সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট।
ম্যাচজুড়ে ছিল কানাডার একচ্ছত্র আধিপত্য। তারা ৭৯ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখেছিল এবং প্রতিপক্ষের গোলমুখে ৩৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ১০টি ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে কাতার পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট নিতে সক্ষম হয়, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখায় কাতারের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার পর এবার প্রথম জয়ও তুলে নিল কানাডা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে তারা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল।
এখন নকআউট পর্বে ওঠার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে কানাডা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করলেই নিশ্চিত হবে পরের রাউন্ড। পাশাপাশি গ্রুপসেরা হওয়ার সুযোগও থাকবে তাদের সামনে, যা শেষ ৩২-এর নকআউট ম্যাচে ঘরের মাঠের সুবিধা এনে দিতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :