ছাড় পেল ইরান, তবু শর্তের বেড়াজাল কাটছে না বিশ্বকাপে

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

চলমান যুদ্ধাবস্থা ও বৈরী কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যেই বিশ্বকাপের আসরে অংশ নিচ্ছে ইরান। মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই নানা প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে মাঠের বাইরে বাড়তি চাপের মুখে ছিল এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি। তবে এবার কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। ইরানের বিশ্বকাপ দলের ওপর আরোপিত ভ্রমণসংক্রান্ত কড়াকড়ি আংশিক শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিজেদের পরবর্তী ম্যাচের ভেন্যু সিয়াটলে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে পৌঁছাতে পারবে ইরান দল। মঙ্গলবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানায়। তবে এই সুবিধার সঙ্গে একটি শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবারের ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে এবং মেক্সিকোর টিজুয়ানায় অবস্থিত তাদের বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে হবে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে দলটি বুধবারই সিয়াটলের উদ্দেশে রওনা হবে।

হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ বিষয়ক সমন্বয় দলের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, প্রথম দুটি ম্যাচে ইরান দলের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘ ভ্রমণজনিত ক্লান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে এবার অতিরিক্ত এক দিনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত প্রথম দুই ম্যাচের জন্য মাত্র এক দিন আগে ভ্রমণের অনুমতি পেয়েছিল ইরান। সেই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দলের প্রধান প্রশিক্ষক আমির ঘালেনোয়ী। বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য সমতার পর তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন হলেও তাদের জন্য পরিস্থিতি অযথা কঠিন করে তোলা হয়েছে।

টিজুয়ানা থেকে সিয়াটলের দূরত্ব প্রায় এক হাজার নয়শ ত্রিশ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই যাত্রার ধকল কাটানোর সুযোগ তৈরির জন্যই অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানিয়েছিল ইরান। দলের অধিনায়ক আলিরেজা জাহানবখশও এ বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অন্য সব দল যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, ইরান কেবল সেই সমান সুযোগটুকুই প্রত্যাশা করেছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করলেও যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে ইরান দল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে একটি বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত একশ আটষট্টি শিক্ষার্থীর স্মরণে বিশেষ প্রতীক ব্যবহার করছেন ফুটবলাররা।

গত ৭ জুন মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর থেকেই খেলোয়াড়দের পোশাকে সোনালি রঙের ‘১৬৮’ চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তারা বিশ্বশান্তির আহ্বান জানিয়ে একটি বার্তাও রেখে এসেছে। সর্বশেষ অনুশীলনেও মাঠে ‘১৬৮’ লেখা ছোট ছোট পতাকা স্থাপন করতে দেখা গেছে দলটির সদস্যদের।

অন্যদিকে, ইরানের প্রতিপক্ষ মিসরও সিয়াটলে আগেভাগে পৌঁছানোর অনুমতি চেয়েছিল। ভ্যাঙ্কুভারে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর তারা সরাসরি সিয়াটলে যাওয়ার আবেদন জানালেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে সিয়াটল থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত নিজেদের বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে হয়েছে মিসর দলকে।

Link copied!