তোষামোদের মোহ বনাম সত্যের দায়: গণমাধ্যমের আসল পথ কোনটি?-সিয়াম রশিদ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

তোষামোদের মোহ বনাম সত্যের দায়: গণমাধ্যমের আসল পথ কোনটি?-সিয়াম রশিদ

সমকালীন সাংবাদিকতায় একটি মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও নৈতিক সংকট প্রায়শই দৃশ্যমান হয়। একদিকে রয়েছে ক্ষমতার বলয়কে তুষ্ট করে তাৎক্ষণিক সুবিধা বা বাহবা পাওয়ার মোহ, অন্যদিকে রয়েছে পেশাগত সততা বজায় রেখে জনস্বার্থ ও সত্যকে তুলে ধরার কঠিন ব্রত। একজন গণমাধ্যমকর্মী আসলে কোন পথ বেছে নেবেন, তা নির্ধারণ করে দেয় তার পেশাদারিত্বের গভীরতা এবং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা।

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মন জুগিয়ে 'তেলবাজি'  সংবাদ প্রকাশ করলে হয়তো সাময়িক প্রশংসা, পুরস্কার বা বিশেষ সুবিধা মেলা কঠিন নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এতে কি সাংবাদিকতার মূল চরিত্র বজায় থাকে? মোটেও না। সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে খুশি করার হাতিয়ার নয়।

বিপরীতে, একটি বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যখন কোনো দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করে, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অস্বস্তি বা ক্ষোভ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই ক্ষোভই প্রমাণ করে যে প্রতিবেদনটি সঠিক লক্ষ্যে আঘাত করতে পেরেছে। সাংবাদিকতার একটি সুপরিচিত উক্তি রয়েছে—

> "যা কেউ কোথাও লুকাতে চাচ্ছে তা প্রকাশ করাই সাংবাদিকতা, বাকি সবকিছুই জনসংযোগ।

গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এর মূল কাজই হলো ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা। যখন একজন সাংবাদিক সত্যকে আড়াল করে ক্ষমতার চাটুকারিতা করেন, তখন তিনি কেবল নিজের পেশার অবমাননা করেন না, বরং পুরো সমাজের সাথে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করেন। পক্ষান্তরে, শত চাপ ও প্রতিকূলতার মাঝেও যিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান, তিনিই প্রকৃত সাংবাদিক হিসেবে ইতিহাসে ও জনমানুষের হৃদয়ে স্থান পান।

এই দ্বন্দ্বে সঠিক পথটি একদম পরিষ্কার এবং এখানে আপসের কোনো সুযোগ নেই। গণমাধ্যমকর্মীদের হাঁটতে হবে সত্য, ন্যায় এবং জনস্বার্থের কঠিন কিন্তু গৌরবের পথে। এই পথযাত্রায় প্রধান অনুসঙ্গগুলো হলো:

কোনো ব্যক্তিবিশেষের প্রশংসা বা নিন্দার তোয়াক্কা না করে ঘটনার গভীরে গিয়ে নিরপেক্ষ সত্য তুলে ধরা।

  ক্ষমতার রক্তচক্ষু বা তোষামোদের মধুর প্রলোভন—কোনো কিছুর কাছেই মাথানত না করা।

 সমাজের অবহেলিত ও শোষিত মানুষের কথা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া।

প্রশংসার জোয়ারে ভেসে যাওয়া সহজ,

কিন্তু সত্যের মশাল হাতে অন্ধকার দূর করা কঠিন। একজন প্রকৃত সাংবাদিকের সার্থকতা দুর্নীতিবাজদের সার্টিফিকেট বা প্রশংসায় নয়, বরং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে। ক্ষণস্থায়ী তোষামোদের পথ পরিহার করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কণ্টকাকীর্ণ পথটি বেছে নেওয়াই হোক প্রতিটি গণমাধ্যমকর্মীর প্রধান অঙ্গীকার। কারণ দিনশেষে, সত্যের জয় অনিবার্য।

Link copied!