একটি দেশের মেরুদণ্ড হলো তার তরুণ সমাজ। কিন্তু সেই মেরুদণ্ডে যদি মাদকের মরণব্যাধি বাসা বাঁধে, তবে পুরো জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে বাধ্য। বর্তমান সময়ে মাদক কেবল একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের জাল।
সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিষাক্ত ট্যাবলেট, গুঁড়ো কিংবা তরল আমাদের তরুণদের মেধা, শ্রম ও সম্ভাবনাকে শুষে নিচ্ছে। একটি পরিবারে যখন একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি থাকে, তখন শুধু সেই ব্যক্তি ধ্বংস হয় না, ধ্বংস হয়ে যায় তার পুরো পরিবার, একটি স্বপ্ন। মাদক নির্মূলের এই লড়াইয়ে তাই আমাদের প্রথাগত চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে একটি আমূল পরিবর্তন দরকার।
বিগত কয়েক দশকে মাদকের ধরন ও বিস্তারে এক ভয়াবহ গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। একসময় গাঁজা, আফিম বা ফেনসিডিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা মাদকের বাজার এখন দখল করেছে সিন্থেটিক বা কৃত্রিম মাদক।
মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসা এই মাদকগুলো বর্তমান তরুণ সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু। অত্যন্ত চড়া দাম হওয়া সত্ত্বেও স্নায়বিক উত্তেজনার মোহে তরুণরা এতে আসক্ত হচ্ছে। উচ্চবিত্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে এলএসডি বা ডিএমটির মতো হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগের বিস্তার ঘটছে, যা মারাত্মক মানসিক বিকৃতি ঘটাচ্ছে।
বিভিন্ন কাশির সিরাপ বা ব্যথানাশক ওষুধকেও তরুণরা মাদক হিসেবে ব্যবহার করছে, যা সহজেই হাতের নাগালে পাওয়া যায়।
মাদকের এই বিস্তার এখন আর কেবল শহরের অলিগলিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলেও। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনাচে-কানাচে আজ মাদকের থাবা।
কোনো মানুষই জন্ম থেকে মাদকাসক্ত হয়ে জন্মায় না। সমাজ, পরিবার ও পরিবেশ তাকে এই পথে ঠেলে দেয়। মাদকাসক্তির মূল কারণগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে বাবা-মায়েরা সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার হওয়ার ফলে সন্তানরা একাকীত্বে ভুগছে। বাবা-মায়ের মধ্যকার কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ বা অতিরিক্ত শাসন সন্তানকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে, যার সহজ নিরাময় হিসেবে তারা মাদকের আশ্রয় নেয়।
পিয়ার প্রেশার বা বন্ধুদের প্ররোচনা অধিকাংশ তরুণ প্রথমবার মাদকের স্বাদ নেয় কেবল কৌতূহল থেকে বা বন্ধুদের চাপে পড়ে। "একটু খেয়ে দেখ কী হয়", "না খেলে তুই স্মার্ট নোস।
আপনার মতামত লিখুন :