ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুঠোফোন কিনে না দেওয়ায় বাবা–মায়ের প্রতি অভিমান থেকে প্রাণ বিসর্জনের চেষ্টা করেছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতের দিকে হলের সামনে অচেতন অবস্থায় কিশোরীটিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল দল ও শাহবাগ থানাকে জানায়। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে কিশোরীর হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বাবা।’
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে কিশোরীটি তার বাবার কাছে একটি দামী মুঠোফোনের আবদার করে আসছিল। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সেই আবদার পূরণে বাবার অসম্মতির জেরে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় কিশোরীটি এখন শঙ্কামুক্ত। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার পর তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটি কেবল একটি আত্মহননের প্রচেষ্টা নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং বর্তমান প্রজন্মের মানসিক অবস্থারও একটি সতর্ক সংকেত। প্রযুক্তি ও বিলাসী ভোগ্যপণ্যের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ, পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি এবং মানসিক চাপ অনেক কিশোর-কিশোরীকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত আন্তরিক যোগাযোগ, মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজন হলে পরামর্শসেবার ব্যবস্থা করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :