অতিরিক্ত সচিব ও অতিরিক্ত ডিআইজি দম্পতির বিরুদ্ধে সম্পদ জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগ, ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

মোঃ বশির হোসেন , নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, সম্পদ আত্মসাৎ এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম এবং তার স্বামী অতিরিক্ত সচিব মো. শামিমুজ্জামান (ফিরোজ)-এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ী এ এস এম জুলফিকার হায়দার। বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-র সাগর-রুনি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুলফিকার হায়দার দাবি করেন, পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আনন্দ হাউজিং সোসাইটিতে ১২ কাঠার একটি প্লট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শামিমুজ্জামান। এ লক্ষ্যে তিনি নগদ ২ লাখ টাকা এবং উত্তরা ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার জেসমিন বেগমের হাতে তুলে দেন। কিন্তু পরে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দিয়ে নানা টালবাহানা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জেসমিন বেগম বিদেশ মিশনে যাওয়ার আগে ৬ কাঠা জমির মূল্য বাবদ ৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার এবং বাকি ৬ কাঠা জমি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দেশে ফিরে এসে তিনি পুরো ১২ কাঠা জমি নিজের নামে বরাদ্দ নেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে ঢাকার সেগুনবাগিচার তানাকা টাওয়ারে ১,৮২৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর সেটি জোরপূর্বক লিখে নেওয়া হয়।

জুলফিকার হায়দার অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন সরকারি প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। তিনি জানান, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বাংলাদেশ পুলিশ-এর আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিলেট রেঞ্জে পাঠানো হলেও যথাযথ তদন্ত হয়নি বলে দাবি তার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত দম্পতির নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালির কলাপাড়ায় ১৬ একর জমি, একটি বহুতল ভবন, কেরানীগঞ্জে প্লট, বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে জমি, পটুয়াখালি হাউজিং এবং পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিতে একাধিক প্লট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি সরকারের কাছে তার কাগজপত্র যাচাই করে প্রাপ্য জমি ও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং অভিযুক্তদের সম্পদের উৎস তদন্তের আহ্বান জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. শামিমুজ্জামান (ফিরোজ)-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেসমিন বেগমকে কল করা হলে তিনি জানান যে তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার কোন সত্যতা নেই।তারা কোনভাবে কোন অন্যায়ের সাথে জড়িত নন।যা সঠিকভাবে তদন্ত করলে জানা যাবে।

 

Link copied!