পূর্বাচলে গড়ে উঠছে ৪ থানা, ৬ তদন্তকেন্দ্র ও ৪১ পুলিশ বক্স: আইজিপি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

 
 

রাজধানীর সম্প্রসারিত পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিসরের পুলিশ অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র, দুটি পুলিশ লাইনস, তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয় এবং একচল্লিশটি পুলিশ বক্স স্থাপনের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।

বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

পুলিশপ্রধান বলেন, বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পূর্বাচলে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হলো। পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগর হিসেবে পূর্বাচলকে গড়ে তুলতে এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর ভাষায়, পূর্বাচল ভবিষ্যতে প্রকৃত অর্থেই নতুন ঢাকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

তিনি জানান, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় চারটি থানা, ছয়টি তদন্তকেন্দ্র এবং দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি তিনটি উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে পর্যায়ক্রমে একচল্লিশটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে।

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পূর্বাচল আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। এরপর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে মোট ঊনত্রিশ দশমিক একুশ একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মধ্যে আঠারো দশমিক তেষট্টি একর জমির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অধীনে এনে একটি স্বতন্ত্র পুলিশ বিভাগ গঠন করা হবে। এই বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। একই সঙ্গে পূর্বাচলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ছয় হাজার পাঁচশ চব্বিশ জন পুলিশ সদস্যের জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।

পুলিশপ্রধানের মতে, বরকাউ পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন পূর্বাচলকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই প্রতিফলন। এর ফলে শুধু ঢাকার ভৌগোলিক বিস্তারই বাড়বে না, নাগরিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাও আরও সুসংগঠিত হবে। একই সঙ্গে নগরায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্বাচলে দুটি পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হবে। এর একটি হলো এক নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প, যা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্য ক্যাম্পটির নির্মাণকাজ চলছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যেই সেটির উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য থানা ও তদন্তকেন্দ্রও স্থাপন করা হবে।

Advertisement

Link copied!