নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক রাজমিস্ত্রিকে পাওনা টাকা না দিয়ে চাঁদার দাবিতে মারধর, নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং নির্মাণকাজের মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী মো. কবির হোসেন (৪৬) ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম জয়নগর এলাকার বাসিন্দা। বৈবাহিকসূত্রে কবির হোসেনের শ্বশুরবাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নে বাস করেন তিনি। অভিযোগে তিনি বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, রবিন মিয়া, চুনু মিয়া ও জুয়েল মিয়াসহ চারজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
লিখিত অভিযোগে কবির হোসেন উল্লেখ করেন, তিনি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে রাজমিস্ত্রি ও সাব-ঠিকাদার হিসেবে বিভিন্ন নির্মাণকাজ করতেন। চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কাজের বাবদ তার কাছে ৯১ হাজার টাকা এবং চেয়ারম্যানের নির্দেশে চুনু মিয়ার কাজ করার বিপরীতে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের সেন্টারিংয়ের বিভিন্ন মালামালও অভিযুক্তরা আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড়খাপন গোদারা ঘাট এলাকায় তার পথরোধ করে মারধর করা হয়। এ সময় তার শার্টের বুকপকেট থেকে নগদ ৩ হাজার ৩২০ টাকা, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং দুটি সিম নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে বড়খাপন এলাকার মানিকের বাড়ির উঠানে রাখা তার রাজমিস্ত্রির কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের সেন্টারিংয়ের সেফটি কাঠ, হ্যামার ড্রিল, সান মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় মামলা করলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাদের দাবি, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজমিস্ত্রি কবির হোসেনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, সামনে ইউপি নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সজল সরকার রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বলেন, "অভিযোগের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, "লিখিত অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
আপনার মতামত লিখুন :