জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন আইরিন খান

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উপস্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।

বুধবার (৮ জুলাই) পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম স্বাক্ষরিত আধা-সরকারি পত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পত্র অনুযায়ী, আইরিন খানকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতায় দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সূত্র জানিয়েছে, এ নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মতি রয়েছে। বর্তমানে আইরিন খান জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আধা-সরকারি পত্রে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, সুশাসন ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইরিন খান অত্যন্ত সুপরিচিত। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দক্ষতা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরা এবং দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে। নিয়োগ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

আইরিন খান যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড আইন বিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি জেনেভাভিত্তিক আন্তর্জাতিক ও উন্নয়ন অধ্যয়ন উচ্চতর প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন।

তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটির ইতিহাসে তিনি প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম মহাসচিব। তাঁর নেতৃত্বেই নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী বিশেষ প্রচারণা শুরু করে।

এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আইন সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৬ সালে সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন।

Advertisement

Link copied!