জলঢাকায় ৬ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, কোচিং শিক্ষক লাল গ্রেফতার

নীলফামারী জলঢাকায় ছয় বছর বয়সী শিশু কন্যাকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় পলাতক আসামী নুর আলম লাল (৩৫) কে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। পুলিশ মামলা রুজু পূর্বক গ্রেফতার দেখিয়ে গত ৪ঠা জুলাই জেলা জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। চাঞ্চল্যকর এ শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনায় প্রযুক্তির অন্যমত মাধ্যম ফেসবুকে যেমন সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন তেমনি উপজেলা জুড়ে বইছে মানুষের মুখে মুখে নানান সমালোচনা।

গণমাধ্যমে অভিযোগ করে যৌন নিপীড়নের স্বীকার নাবালিকার মা নাজমা আক্তার (৩১) বলেন, আলহেরা মডেল মাদ্রাসায় নার্সারি পড়ুয়া ৬ বছরের শিশু কন্যা ( জবা ) ছদ্ম নামকে চকলেট, বিস্কুট, আইসক্রিমসহ মজাদার খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১২ই মে ২৬ইং সকাল ১১টায় নিজ বাড়ির বাথরুমে ঢুকিয়ে পাষবিক হিংস্রতায় যৌন নিপীড়ন করেন। স্বামী কর্মসংস্থানে থাকায় এ সময় আমি বাজার করতে গিয়ে ছিলাম।

এসে মেয়েকে অনেক খোঁজাখুঁজি করি কিন্তূ পাইনি। একটু পরে মেয়ে আমার কেঁদে কেঁদে বাড়িতে ফিরে সব খুলে বললে মেয়েকে নিয়ে ধর্ষক লালের বাড়িতে যাই। জানতে চাইলে শিক্ষক নুর আলম লাল ও তার স্ত্রী সাতোয়ারা বেগম উল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ পূর্বক বদনাম জনক কথাবার্তা বলে হুমকি দেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ধর্ষক লাল পালিয়ে যায় এবং তার ভাই কালা মিয়া বিষয়টি দেখবেন মর্মে আমাদের শান্ত থাকার আহবান জানান।

কিছু দিন বাহিরে থেকে ঘটনার দিন গত ৩রা জুলাই সন্ধ্যায় দেশিয় অস্ত্র সহ অজ্ঞাত ৮/১০ জনকে নিয়ে আমার বাড়ির মুল গেটে অনাধিকার প্রবেশ পূর্বক যৌন নিপীড়ন ঘটনা নিয়ে বারাবাড়ি করলে পরিনতি খারাপ আছে, তোর মেয়েকে করেছি এবার তোমাকে করিবো বলে আমার বুকে হাত দিতে প্রস্তূত হয়। এ সময় আমার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন আসলে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে ধর্ষক লাল চলে যেতে চাইলে এলাকাবাসী পাকরাও করে ধরে উত্তমমধ্যম দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন। নাবালিকার পিতা আব্দুল বারেক বলেন, আমার নাবালিকা কন্যার সঙ্গে যৌন নিপীড়ন করে উল্টো বিভিন্ন মহলে আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে মিথ্যা মাদক সম্রাট বানিয়ে কটুকথা প্রচার পূর্বক জমিজমা ও আর্থিক কেলেংকারীর মত মিথ্যা প্রজ্ঞাপান্ডা লোকমুখে বলে বেড়ায় এবং একটি স্বার্থম্বেসী মহলের পরক্ষ ইন্দোনে যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে ভিন্ন খ্যাতে রুপান্তরিত করতে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

ধর্ষক লাল জেলহাজতে থাকলেও তার নেপথ্যে একটি চক্র আমাদের ক্ষতি সাধনসহ ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।  আমি আইনের নিকট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কুমনস্ক চিন্তার এমন ধৃষ্টতা নারী লোভী দুষ্কৃতকারীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করছি। এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি নাজমুল আলম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

Link copied!