স্কুলছাত্রীকে বারবার ধর্ষণের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে আদিতমারী থানায় নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর বাবা মামলাটি করেন। মামলায় উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের মোখলেছার রহমান এবং তার সহযোগিতার অভিযোগে দুই নারীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মোখলেছার রহমান প্রতিবেশী সপ্তম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে স্কুলছাত্রী ঘটনাটি গোপন রাখে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই নারীর সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তাকে প্রথমে রংপুর এবং পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি বাসায় আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় স্কুলছাত্রী চিৎকার দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটে গিয়ে বাহিরের লোকজনের সহায়তা নেন। সেখানে উপস্থিত লোকজন লম্পট মোখলেছার রহমানকে মারপিট করে ছেড়ে দেয় এবং স্কুলছাত্রীর কাছ থেকে বাড়ির মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে ঢাকা গাজীপুর থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

 

অসুস্থ স্কুলছাত্রীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে গত মঙ্গলবার রাতে লম্পট মোখলেছার রহমান ও তার সহযোগী দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেন ওই স্কুলছাত্রীর বাবা। ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী বলেন, মোখলেছার রহমান খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এ ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার ক্ষমতার প্রভাবে সে অপকর্ম করে বেড়ায়। এ মামলাটিও নষ্ট করতে জোর চেষ্টা করেছিল গ্রাম পুলিশ মহুবর। গ্রাম পুলিশের সাথে থানা পুলিশের সম্পর্ক ভালো থাকে। সেদিক দিয়ে ফুলতলা বারবার অপরাধ করেও বেঁচে যায়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।

 

বাদী স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়েছিল। তার বিশ্বাস ছিল আমার মেয়ে কোনো একদিন ঘটনা আমার কাছে প্রকাশ করবে। সেই ভয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে আসামিরা মেয়ে অপহরণ করে। আমি অশিক্ষিত গরিব মানুষ টাকা পয়সা নেই কোথায় যেতে হবে ন্যায় বিচারে সেটাও জানি না। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর অন্যায়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মামলা করেও তাদের লোকজনের হুমকিতে জীবন আমাদের অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

 

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া মাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। বুধবার ভিক্টিমকে(স্কুলছাত্রী) ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!