টানা ভারী বৃষ্টিতে আবারও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ নগরী। সাড়ে আট ঘণ্টার রেকর্ড বৃষ্টিপাতে নগরের প্রধান সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকাজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ব্রাহ্মপল্লী এলাকায় ঘরের ভেতর জমে থাকা পানিতে পড়ে আয়াস নামে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে নগরের প্রধান সড়ক, হাসপাতাল এলাকা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
নিহত আয়াস ব্রাহ্মপল্লী এলাকার আবির মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে তাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আয়াস তার মায়ের সঙ্গে খাটে ঘুমিয়ে ছিল। একপর্যায়ে সে খাট থেকে গড়িয়ে মেঝেতে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। পরে স্বজনেরা তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির স্বজন রুমানা আক্তার বলেন, সারারাতের বৃষ্টিতে ঘরের ভেতর পানি জমে যায়। ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটি হঠাৎ খাট থেকে নিচে পড়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ শিবিরের উপপরিদর্শক মো. সুজাউদ্দিন জানান, সকাল প্রায় দশটার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
এদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে বারোটা থেকে বুধবার সকাল নয়টা পর্যন্ত সাড়ে আট ঘণ্টায় মোট ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি বছরে ময়মনসিংহ জেলায় এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
রাতভর বর্ষণের ফলে বুধবার সকালে নগরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। অনেক বাড়িতে নর্দমার ময়লাযুক্ত পানিও প্রবেশ করে। এতে কর্মস্থলে যেতে দেরি হয় অনেকের, ব্যাহত হয় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে যাতায়াত।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পলি অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সেসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত রাখতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। একই সঙ্গে তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খাল ও নর্দমায় ময়লা-আবর্জনা না ফেললে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা অনেক সহজ হবে।
আপনার মতামত লিখুন :