কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসা মাটিচাপা পড়ে অন্তত আট শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু শিশু আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুর প্রায় সোয়া একটার দিকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং পাঁচ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের একটি মাদ্রাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিবির সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। দুপুরে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদ্রাসার ওপর ভেঙে পড়ে। সে সময় সেখানে অনেক শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণে ব্যস্ত ছিল। আকস্মিক এ ঘটনায় পুরো ভবনটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বহু শিক্ষার্থী ভেতরে আটকা পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ এখনও চলছে।
বিকেলের দিকে শিবিরের এক রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক জানান, এ পর্যন্ত আট শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক শিশু আটকা পড়ে আছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এদিকে, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার তাৎক্ষণিকভাবে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর দুটি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও শিবিরবাসীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে আটে পৌঁছেছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :