তাড়াইলে আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পেল কুড়েরপাড় কবরস্থান 'মঞ্জিলে মুসাফির

মো ওমর খান সানি , তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার রাউতি ইউনিয়নের কুড়েরপাড় কবরস্থান ‘মঞ্জিলে মুসাফির’ প্রাঙ্গণ নান্দনিক আলোকসজ্জায় নতুন রূপ পেয়েছে। স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় কবরস্থানের চারপাশে রং-বেরঙের লাইটিং স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর আলোকিত কবরস্থানটি দৃষ্টি কাড়ছে পথচারী, এলাকাবাসী ও কবর জিয়ারতে আসা মানুষের।

প্রায় ৪০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ কবরস্থানের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আর্থিক সহায়তায় ২০১৮ সালে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন বেজপা'র মহাব্যবস্থাপক আলহাজ এম. ফজলুর রহমান ভূঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী খান এবং রাউতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর শরিফ উদ্দিন জুয়েল।

সম্প্রতি স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে কবরস্থানের চারপাশে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা স্থাপন করা হয়। এ কাজে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি প্রবাসীরাও আর্থিক সহায়তা দিয়ে উদ্যোগটি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে কবরস্থানটি এখন আরও পরিচ্ছন্ন, আকর্ষণীয় ও নিরাপদ পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

যুব সমাজের প্রতিনিধি ও তরুণ সমাজসেবক আবুল হাসেম জয় বলেন, কবরস্থান আমাদের প্রিয়জনদের শেষ ঠিকানা। তাই এর সৌন্দর্য ও পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা এই আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও কবরস্থানের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।

কবরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা মোস্তফা মিয়া বলেন, স্থানীয় যুবকদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আলোকসজ্জার কারণে কবরস্থানের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি সন্ধ্যার পর কবর জিয়ারতে আসা মানুষের চলাচলও সহজ হয়েছে। এই কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

কবর জিয়ারতে আসা এবং দর্শনার্থীরা জানান, সুন্দর পরিবেশ ও পর্যাপ্ত আলোর কারণে এখন সন্ধ্যার পরও নির্বিঘ্নে কবর জিয়ারত করা যায়। তারা এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের মতে, সামাজিক ও ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়নে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রবাসীদের সহযোগিতা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন উদ্যোগ অন্য এলাকাকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

Link copied!