কর্ণফুলী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে সড়ক, অলিগলি, ফসলি জমি ও বহু বসতবাড়ি। পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। এমন দুর্যোগের মধ্যেই জলাবদ্ধতা নিরসনে সরাসরি মাঠে নেমে উদ্ধার ও পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য,কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক, ও শিকলবাহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম।
বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তিনি ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেন, নালা ও কালভার্টের মুখ পরিষ্কারের কাজ তদারকি করেন। পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়া স্থানগুলোতে স্কেভেটর ও শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প নালা খননের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে পানি কমতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন ও নালায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং কিছু স্থানে অবৈধ দখলের কারণে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত ছিল। টানা বর্ষণে সেই সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। তবে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঘরে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়ে পড়ে। রান্নাবান্না, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে নিরাপদে বসবাস—সবকিছুই কঠিন হয়ে যায়। ড্রেন পরিষ্কারের পর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “মানুষের দুর্ভোগের খবর পেয়েই আমি স্থানীয় যুবসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে মাঠে নেমেছি। যেখানে পানি আটকে আছে, সেখানে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও বিকল্প নালা তৈরির কাজ চলছে। মানুষের কষ্ট লাঘবই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা পানি চলাচলের পথ দখল বা বন্ধ করে রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :